মহীরাবন বধের পর মা উগ্রচণ্ডী দেবী কে শ্রী রামচন্দ্র পাতাল থেকে পৃথিবীর মধ্যস্থল ক্ষীরগ্রামে নিয়ে আসেন। আর সেখানেই শ্রী হরির মা যোগাদ্যা নাম করন করেন।
আজ আমরা যোগাদ্যা মায়ের ঐতিহাসিক কিছু গল্প জেনে নেই।
ক্ষীরগ্রামস্থিত জ্যোতিষ চতুষ্পাঠী বিখ্যাত জ্যোতিষী ঁশরৎচন্দ্র ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের দৌহিত্র শ্রী শিবনাথ চট্টোপাধ্যায় কর্ত্তৃক প্রকাশিত যোগাদ্যা বন্দনা তে যা বর্ণনা করা আছে তাই আপনাদের কাছে সরল ভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করছি।
মহীরাবন বধের আগে মা পাতালে মহীরাবনের কাছে ভয়ংকর রূপে তীক্ষ্ণ খড়ক হস্তে দেবী "উগ্রচণ্ডি" নামে পূজিতা হতেন।
মহীরাবন বধের পর মা উগ্রচণ্ডী দেবী কে শ্রী রামচন্দ্র পাতাল থেকে পৃথিবীর মধ্যস্থল ক্ষীরগ্রামে নিয়ে আসেন। আর সেখানেই শ্রী হরির আদেশে বিশ্বকর্মা এক মন্দির (দেউল) নির্মাণ করেন।
![]() |
| Vishwakarma built a temple (Deul) on the order of Sri Hari |
আর ঐ মন্দিরেই শ্রী হরি মায়ের পূজা করে মা যোগাদ্যা নাম ঘোষনা করে।
অন্যদিকে হরিদত্ত নামে এক রাজাকে মা মহামায়া স্বপ্নে দেখাদিয়ে বলে —
কত নিদ্রা যাও রাজা হয়ে অচেতন ।
কৈলাশ ছাড়ি আইনু তোমার ভবন।।
তোমারে সদয় আমি দেবী ভদ্রাকালী।
মোর পূজা কর নিত্য দিয়া নরবলি।।
মাতা যোগাদ্যা পূজার কিছু নিয়মও বলেদেন রাজা হরিদত্তকে।
বৈশাখ মাসে মাটি কাটা যাবেনা। সলতে পাকানো ও অন্নে কাঠি দেওয়া যাবেনা। পুর বৈশাখ মাস ক্ষীরগ্রামে স্বামী স্ত্রী এক সাথে শয়ন করা নিষেধ। বৈশাখ মাসে কোনো গর্ভবতী মহিলাকে ক্ষীরগ্রামে রাখা যাবেনা তাকে অন্য গ্রামে পাঠাতে হবে।
গোটা বৈশাখ মাস কোনো ছাতা ব্যবহার করতে পারবেনা। সমস্ত বৈশাখ মাসে ধান ভানিতে পারিবেনা। সমস্ত বৈশাখ মাসে কালিতে লেখা ও হাল দেওয়া মানা করা হয়েছে।
উত্তর দুয়ারি ঘর করতে বারন করে বৈশাখি সংক্রান্তিতে মহাপূজা করার উপদেশ দিয়ে মা মন্দিরে প্রবেশ করেন।
সেই থেকে রাজা মাতাকে নরবলি দিয়ে পূজা করে থাকে । তারজন্য তিনি ক্ষীরগ্রাম বাসিন্দাদের সকলের নরবলির পালা করে দেন। আর গ্রামের সকলে এমন নিয়ম পালিত করে থাকে।
এভাবে চলতে চলতে এক সময় পূজারির পালা আসে। কিন্তু পূজারির একটাই সন্তান থাকায় পুজারি রাত্রি বেলা গ্রাম ছেড়ে পালাতে চায়।
![]() |
| Mata Jogadya in the guise of an old woman blocked the Brahmin's path |
আর তখনি মাতা যোগাদ্যা বৃদ্ধার বেশে পূজারির পথ আটকায়। আর পূজারির কাছে সব জানতে চায় তখন পূজারি বলে
ব্রাহ্মণ বলেন মাতা কহিতে হয় রাশি।
যোগাদ্যা নামেতে এক এসেছে রাক্ষসী।।
প্রাণ রক্ষা নাহি পাই ক্ষীরগ্রামে রয়ে
স্ত্রী-পুত্র লয়ে তাই যাই পলাইয়ে ।।
এসব শুনে বৃদ্ধ মহিলা হেসে বলে
যার ভয়ে পালাও তুমি। সেই মা যোগাদ্যা আমি।।
এসব শুনিয়া পূজারি কন্দন করতে করতে মায়ের কাছে ক্ষমা চায়। আর বলে যদি তুমি সত্যিই মা যোগাদ্যা হও তাহলে মোরে আশ্বিনের মহামায়া রূপে দর্শন দাও। মাতা যোগাদ্যা মহিষমর্দিনি রূপে তাদের দর্শন দেয় । মায়ের এমন রূপ দেখিয়া যোগাদ্যা মাতাকে তার মস্তক উৎসর্গ করতে চায়।
কিন্তু মা যোগাদ্যা তার মস্তক নেওয়া তো দূরের কথা দেবী সেদিনের পর থেকে নরবলি বন্ধ করতে বলে। আর বলে শুধু মহাপূজার দিন তোমাদের মনথেকে যা বলিদেবে সেটাই তিনি গ্রহন করবেন। এই বলে পুজারিকে ঘড়ে ফেরার কথা বলে নিজেও সেই মন্দিরে প্রবেশ করে। সেই থেকে আজও মা যোগাদ্যা দেবীর দশভুজা মহিশমর্দিনী রূপে পূজা হয় আর শুধু মহা পূজার দিন মাকে ছাগ, মহিশ ও নররক্ত দিয়ে মাকে বিদায় জানায়।
এমনই আর এক ইতিহাস আছে মাকে শাঁখা পড়ানো নিয়ে।
একদিন মহেশ্বরি সরোবর তটে।
স্নান ছলে বসে আছে ধামচের ঘাটে।।
সেই সময় এক শাঁকারি শাঁখা বিক্রয় করতে যাচ্ছিল। মা যোগাদ্যা তখন এক নারী রূপে শাঁকারিকে ডাকে। আর শাঁখা পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু শাঁকারি তাকে শাঁখা পড়াতে চায়না। কারন সেখানে আর কোনো বেক্তি না থাকায় সে আগে ঐ নারীর পরিচিত জানতে চায়।
দেবী বলে শুন বাপু পরিচয় দি।
পূজারী বামুন আছে আমি তার ঝি।।
এ কথা বল মোর পিতার নিকটে।
তার কন্যা শঙ্খ পরে ধামাচের ঘাটে।।
গম্ভীরের কোলঙ্গীতে পাঁচ তঙ্কা আছে।
শঙ্খ পরাইয়া টাকা লবে পিতার কাছে।।
অভয়ার মায়া শাঁখারি না বুঝতে পেরে। দেবী যোগাদ্যা কে শাঁখা পড়িয়ে পুজারির কাছে যান শাঁখার দাম নিতে। তখন পুজারি বলেন যে তার কোনো কন্যা নেই তাহইলে কে শাঁখা পড়িল। দুজনের কথায় কথায় তখন বলে দেখ গিয়ে গম্ভীরের কোলঙ্গীতে টাকা আছে। তখন পুজারি যেই দেখে গিয়ে। পুজারির হাতে তখন ৫টাকা মেলে।
টাকা দেখে পুজারি চিন্তায় পরে। কারন পুজারি সেখানে কোনো টাকা রাখেনি। তাহইলে এখানে টাকা এলো কি করে? তখন পুজারি বুঝতে পারে যে তিনি আর কেউ নন , তিনি মহামায়া মা যোগাদ্যা। তখন পুজারি ও শাঁখারি পুনরায় সেই ঘাটে গিয়ে দেখে সেখানে কেউ নেই।
![]() |
| Conch hand Ma Yogadya in Dhamachi water in Kheergram |
তখন পুজারি মাকে দর্শন দেবার মিনতি করে। আর তখন মা তার দুই হাত তুলিয়া তাহার শঙ্খ দেখায়। সেই থেকে ঐ শাঁখারির বংশধর এখনো মা যোগাদ্যা কে শঙ্খ দিয়ে যায়।

%20on%20the%20order%20of%20Sri%20Hari.jpg)


COMMENTS