শিবরাত্রি ব্রত-কথা-একদা পার্বতী শিবকে প্রশ্ন করলেন, ভগবান, আপনি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-দাতা। আপনি কোন ব্রত বা তপস্যায় সন্তুষ্ট হন?
ছেলেবেলায় দেখা গ্রামের শিবরাত্রি
আজ মহাশিবরাত্রি আর এই শিবরাত্রি র কিছু পুরাতন স্মৃতি তোমাদের শোনাব। আজ থেকে বছর ২২ আগের কথা। প্রতি বছর ফাল্গুন এর রাতে মহা শিবরাত্রি পালন করা হয়। আর শিব চুতদর্শীর সারা দিন থেকে রাত্রিতে লক্ষ লক্ষ নারী শিবের মাথায় দুধ, ডাবের জল ঢেলে এবং ফুল ও বেলপাতা দিয়ে শিবের পূজা করেন। আমাদের বাঙ্গালি মেয়েদের বিশ্বাস এই পূজা করলে ভাল বর পাওয়া যায়। তাই তারা ভাল বর পাওয়ার আশায় এমন পূজা মহা ধূম ধামের সাথে পালন করত।
![]() |
| শিবের মাথায় দুধ, ডাবের জল ঢেলে এবং ফুল ও বেলপাতা দিয়ে শিবের পূজা করছেন |
সে ছিল এক সুন্দর দৃশ্য যা আজও আমার চোখে ফুটে ওঠে । প্রত্যেক গ্রামে এক এক রকম আয়জন।
শিবরাত্রি র দুইদিন আগে গ্রামের সমস্ত মেয়েরা দলবদ্ধ হয়ে একটা ছোটোখাটো মিটিং-মিছিল করত। আর বিবাহিত মহিলারা মজাকরে বলত আমরা বর পেয়ে গেছি তাই আমাদের আর শিবের ব্রত করার দরকার নেই, কিন্তু তবুও বিবাহিত মহিলাদেরও শিবরাত্রি করতে দেখাযেত।
শিবরাত্রি আগেরদিন — বড়োদের কাছ থেকে নিয়মাবলী শিখে দলবদ্ধ হয়ে যাত্রা দিত গঙ্গা স্নানে ।
![]() |
| গঙ্গা স্নানের চিত্র |
গঙ্গা স্নান সেরে হাট বাজার করে, নিরামিষ খাবার আহার করে সন্ধ্যায় বসত পাড়ার ঠাকুর তলায়। সবাই একহয়ে চলত হইহই - কেমন কাটাবে আগামিকাল এই সব বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা। শিবরাত্রি ব্রতের বিভিন্ন কথা নিয়ে আলোচনার শেষে যে যার ঘড়ে গিয়ে স্বপ্নের দেশে পারি দিত।
রাত্রির শেষে ভোর থেকেই শুরু হত গ্রামে এক কোলাহল।
![]() |
ভোরবেলার ফুল তোলার দৃশ্য |
ভোরবেলার ফুল তোলার দৃশ্য টি আজও চোখে ভাসে। ফুল তোলা থেকে আরাম্ভ করে পূজা দেওয়া পর্যন্ত সে এক বিরাট প্রতিযোগিতা।
শাড়ি পড়ে, লাইন দিয়ে, হাতে পূজার পাত্র নিয়ে, গ্রামে সমস্ত মন্দিরে শুরু করে প্রতিবেশী গ্রামের বড়ো শিব মন্দিরে পূজা সেরে জল ঢেলে ঘড়ে ফিরত সেই সন্ধ্যা বেলা। সারাদিন উপবাস করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবার বিশ্রামের পালা। কিন্তু ঘুমানোর জো নেই তাই তাদেরকে জাগিয়ে রাখার দায়িত্ব টা নিত গ্রামের দাদা ও কাকারা তারা সন্ধ্যা থেকেই ঠাকুর তলায় আয়জন করত তাদের বিশ্রামের এক জায়গা। আর সেখানে লাগানো হত ভিডিও, সময়ের সাথে দিনবদলে ভিডিওর পর এলো সিডি এসবে বিভিন্ন ঠাকুর দেবতাদের সিনেমা, নাটক দেখিয়ে তাদেরকে জাগিয়ে রাখা হত। রাত্রে বিছানায় না শুয়ে খড় বা কস্বলে শুতে হয়। এসব এখন ইতিহাস। সারারাত হেসেখেলে কেটে যেত সেই রাত।
![]() |
| ব্রাহ্মণ প্রনাম |
সকালে সূর্যের আলো দেখে, তারপর স্নান সেরে ব্রতকথা শুনে, ব্রাহ্মণ ভােজন করিয়ে ও সাধ্যমত দক্ষিণা দিয়ে প্রনাম করে শিবের প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভেঙ্গে, নিজ গৃহে গিয়ে বিশ্রামের পালা। এভাবেই কাটত শিবরাত্রি ব্রত। সে এক অন্যরকম অনুভূতি।
গল্পের সমস্ত কিছুই বাস্তব, সংক্ষেপে লিখলাম ।
গল্পটি পড়ে কেমন লাগল তা কমেন্টের মাধ্যমে জানান।
মূল্যবান সময় দিয়ে গল্পটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।




COMMENTS