Papmochani ekadashi পাপমোচনী একাদশী বছরের অন্যতম পুণ্যময় একাদশী পাপমোচনী একাদশী কবে, জেনে নিন এই একাদশীর শুভ সময় ও মাহাত্ম্য
পাপমোচনী একাদশী সারা বছরের পুণ্যময় একাদশী। এই একাদশী পালনে সাতজন্মের পাপ ক্ষমা করেন ভগবান বিষ্ণু।
- কবে এই তিথি ও লগ্ন তা জেনে নিন।
- পাপমোচনী একাদশী ব্রতকথা।
- ব্রত পালনের নিয়ম।
- ব্রত পালনের উপকারিতা।
#কবে এই তিথি ও লগ্ন তা জেনে নিন -
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকেহিন্দু পাপমোচিনী একাদশী বলা হয়। এই একাদশী ব্রত পালন করলে সমস্ত ধরণের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
#পাপমোচনী একাদশী ব্রতকথা -
![]() |
| Srikrishna and Yudhishthira |
শ্রীকৃষ্ণ তখন যুধিষ্ঠিরকে বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। একাদশী হল সমস্ত সুখের ভাণ্ডার, সফলতা প্রদানকারী ও পরম মঙ্গলময়। সমস্ত পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথির নাম ‘পাপমোচনী’ নামে পরিচিত। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই পুরাকাহিনী আপনাকে আমি শুনাচ্ছি আপনি মনযোগ দিয়ে তা শুনুন।
এই বলিয়া ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলতে শুরু করলেন।
প্রাচীনকালে অতি মনোরঞ্জক চৈত্ররথ নামক এক সুন্দর বন বা পুষ্প উদ্যান ছিল। মুনিগণেরা বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন ঐ বনে। একসময়ের কথা, চ্যবন ঋষির পুত্র মেধাবী ঋষি নামক এক ঋষিকুমার ঐ বনে তপস্যা করছিলেন। মেধাবী ঋষি ছিলেন শিবভক্ত। শিবদ্রোহী কামদেবের অনুচরী ছিলেন অপ্সরারা। তাই মেধাবী ঋষির তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য মঞ্জুঘোষা নামক অপ্সরাকে পাঠান কামদেব।
![]() |
| মঞ্জুঘোষা নামের এক সুন্দরী অস্পরা |
একদিন মঞ্জুঘোষা কোনভাবে মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়েন। আর এদিকে ঋষি মেধাবীও অস্পরার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে তপস্যার কথা ভুলে যান! তখন সেই অস্পরা মুনিকে নানান ভাবে নিজের নৃত্য ও সঙ্গীত কলা এবং সৌন্দর্যের সাহায্যে মেধাবী মুনিরকে বশীভূত করে। কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন ও তপস্যা বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে ভুলে যায়।
বহুবছর মঞ্জুঘোষার সঙ্গে বিলাসিতার জীবন কাটান। এইভাবে অস্পরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হয়ে যায়।![]() |
| ঋষি মেধাবীও অস্পরার মঞ্জুঘোষা |
মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অস্পরা দেবলোকে ফিরে যেতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধামী মুনিকে বললেন- হে প্রভু, এখন আমাকে আমার গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধামী উত্তরে বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছে, প্রাতঃকাল(সকালবেলা) পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। অভিশাপ ভয়ে সেই অস্পরা আরও কয়েক বছর তার সাথে সহবাস করল। এইভাবে বহুবছর অতিবাহিত হয়ে গেল। দীর্ঘ সময়কাল অস্পরার সাথে সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হত।
মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজগৃহে গমনের প্রার্থনা জানালে, মুনি এবার বললেন- যে এখন প্রাতঃকাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানেই থাকো। মুনির কথা শুনে এবার মঞ্জুঘোষা একটু হাঁসলেন। আর তাকে বলল যে - হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার কত বৎসর যে অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করূন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে যোগবলে জানতে পারলেন যে - তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।মঞ্জুঘোষা কী ভাবে তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করেছে, এ বিষয় জানতে পেরে ক্ষুব্ধ মুনিবর মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধিত হয়ে বললেন- ওরে পাপীষ্ঠি, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারিনী, তোমাকে ধিক্! তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর অভিশাপে অস্পরার শরীর কুরূপ প্রাপ্ত হয়।![]() |
| অভিশাপে অস্পরার |
তখন সে বিনীত মস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মেধাবী ঋষি বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালন করলে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে। অপ্সরাকে মুক্তির পথ জানিয়ে নিজের পিতার কাছে ফিরলেন মেধাবী মুনি।
![]() |
| পাপমোচিনী একাদশী ব্রত পালন করার পরামর্শ |
পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী পিতাকে বললেন হে পিতা! এক অস্পরার সঙ্গদোষে আমি যে মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি ভাবে করিব? কৃপা করে তা আমায় বলুন। উত্তরে ঋষি চ্যবন বলেন যে, ‘হে পুত্র, তুমি এটা ভালো করনি।
তুমিও পাপ করেছ। তাই তুমিও পাপমোচিনী একাদশী ব্রত পালন কর।’ চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে।
পিতার উপদেশ মেধাবী সেই ব্রত খুবই ভক্তিভরে পালন করেন। আর তার সমস্ত পাপ দূর হয়েযায়। আর পুণরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন।
![]() |
| ঋষিকুমার তপস্যা |
মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের পরে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত ভাল ঘটে। আর দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করেন।
এ কথা শুনিয়ে শ্রী কৃষ্ণ যুধিষ্ঠির কে বলেন- হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে অসংখ্য গোদানের ফল লাভ হয়।
এই বলে শ্রী কৃষ্ণ পাপমোচনী একাদশী ব্রত কথা শেষ করেন।
#ব্রত পালনের নিয়ম -
পুরাণ অনুসারে এই দিন বিষ্ণুর চতুর্ভুজ রূপের পুজো করা হয়। তুলসী পাতা ভগবানের অত্যন্ত প্রিয় পুজো উপাচার। তাই দিয়েই এই একাদশীতে পুজো করার রীতি রয়েছে।
সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হবে। কুশ ও তিল ভেজানো জলে স্নান করতে হবে। একাদশীর পুজো সেরে তবেই ভোজনের রীতি। তবে উপবাস না করতে পারলেও ক্ষতি নেই। চাল-গম খেতে নিষেধ করেন অনেকে। ফল, দুধ, মিষ্টি, বাদাম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।পাপমোচনী একাদশীর রাতে নয়মুখী প্রদীপ জ্বেলে পুজো করুন ভগবান বিষ্ণুর। পাশাপাশি মা লক্ষীর জন্যও জ্বালাতে হবে একটি প্রদীপ। লক্ষ রাখুন দুটি প্রদীপই যেন সারা রাত জ্বলে।
দেবতা নারায়ণ তুলসী পাতা, ফুল, ফল, ধূপে সন্তুষ্ট হন। সন্ধেয় শীতল ভোগ দিন, অর্থাৎ লুচি, সুজি সহযোগে ভোগ। মন্দিরে নারায়ণ শিলা থাকলে পুজো দিতে পারেন
এই তিথিতে আটটি কাঠবাদাম ও একটি জটাসমেত নারকেল নিবেদন করুন।
এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে অসংখ্য গোদানের ফল লাভ হয়।
ব্রত পালনের উপকারিতা -
একাদশীর উপবাস অত্যন্ত কল্যাণকর এই একাদশী ব্রত পালন করলে সমস্ত ধরণের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একাদশীতে উপবাস করলে নারায়ণের বরদান মেলে বলে বিশ্বাস।






COMMENTS