পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর ব্লকের ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামে ধুলোট উৎসবে মাতলো গ্রামবাসী। হরিনাম সংকীর্তন।
দেশ মাতৃকার ও বিশ্বজননীর সকল জীবের ও জাতির শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায়, অষ্টপ্রহর ব্যাপী হরিনাম সংকীর্ওন ও মহোৎসব আয়োজন করেছিল পূর্ব বর্ধমানের ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামবাসী ।
দুই’দিন ব্যাপী অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তনের পর রবিবার ধুলোট উৎসবে মাতলো পূর্ব বর্ধমানের ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামবাসীরা।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য সকলেই মিলে করি কৃষ্ণের নাম। তাই সবাই মিলে গাইছে কৃষ্ণের গান—
কেনইবা করবেন হরিনাম —
তমসাচ্ছন্ন ঘোর কলির কঠোর যন্ত্রণায় জগৎ-জীবন, সংসার সর্বগ্রাসী ভোগবাদের করাল কষাঘাতে নিষ্পেষিত। সনাতনধর্মের অমৃতবাণী বিস্তৃত হয়ে অধর্ম আর কুসংস্কারের আবর্তে মানবকূল আজ অনিশ্চিত অন্ধকারে নিমজ্জমান। এই পতন প্রবণ মানবতা উচ্চারণে মুক্তির দূতরূপে আবির্ভূত হয়ে মহাবতার শ্রীশ্রী গৌরসুন্দর লীলাচ্ছলে বিলিয়েছিলেন শ্বাশত বিশ্বশান্তির মহামন্ত্র-চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃষ্ণ নাম।
![]() |
| দুইদিন ব্যাপী অষ্টপ্রহর হরিনাম সংকীর্তণের পর রবিবার ধুলোট উৎসবে মাতলো পূর্ব বর্ধমানের ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামবাসীরা। |
তাই ভক্ত পদরেণু ললাটে ধারণ করে বিগত বছরের ন্যায় এবারও দেশ মাতৃকার ও বিশ্বজননীর সকল জীবের ও জাতির শান্তি মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায়, অষ্টপ্রহর ব্যাপী হরিনাম সংকীর্ওন ও মহোৎসবের আয়জন করেছিলেন ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামবাসীর উদ্যোগে । ঘোড়াডাঙ্গা গ্রামের কালি মন্দির প্রাঙ্গনে ৮ প্রহর ব্যাপী হরিনাম সংকীর্তনের আয়জন করা হয়েছিল
প্রায় পাঁচশো বছর পূর্বে শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন যে —
এখন সোভিয়াত রাশিয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় রাস্তাঘাটে সর্বত্রে প্রকাশ্যে দলে দলে হাজার হাজার মানুষ হরিনাম সংকীর্তন করছে ।
হরিনাম কীর্তন করলে এক দিব্য আনন্দের অনুভূতি লাভ করা যায়, যাতে আত্মা প্রসন্ন হয় – তাই রাশিয়ানরা আজ উচ্চস্বরে হরিনাম কীর্তন করছেন । এটি বাস্তব প্রমাণ কোন রকম অন্ধবিশ্বাস নয় । যিনি হরিনাম করবেন, তিনিই তা উপলব্ধি করতে পারবেন যে — এ দিব্য আনন্দ লাভ করার জন্য কোনও কিছুর প্রয়োজন হয় না, শুধু বিশ্বাসের সঙ্গে হরিনাম কীর্তন করলেই হবে –আত্মা প্রসন্ন না হলে, তথাকথিত ইন্দ্রিয়লব্ধ সুখের দ্বারা এ জগতের কোনও মানুষ প্রকৃত শান্তি লাভ করতে পারে না । সে সম্বন্ধে ভাগবতে বলেছে –
অনাদি কাল ধরে এ জড় জগতে সত্ত্ব, রজ ও তম – মায়ার এ তিনটি গুণের সঙ্গ ফলে আমাদের হৃদয় কলুষিত । এ কলুষিত হৃদয়কে মার্জন করা প্রয়োজন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকের প্রথম শ্লোকে উল্লেখ করেছেন, চেতোদর্পণমার্জনম্ – ‘চিত্তরূপ দর্পণকে মার্জন কর’, আর সকলের শেষে বলেছেন, বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তণম্ – ‘শ্রীকৃষ্ণ-সংকীর্তন বিশেষরূপে জয়যুক্ত হোক’ ।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করে কলুষিত হৃদয়কে মার্জনের কথা বলেছেন ।তিনবার ‘হরিনাম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । অর্থাৎ চিত্তরূপ দর্পণকে মার্জন করে চিন্ময় স্বরূপে অধিষ্ঠিত হতে গেলে এই কলিযুগে হরিনাম কীর্তন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও বিকল্প নেই । নাস্ত্যেব শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘অন্য কোনও’ উপায়ে নয় । এই নাস্ত্যেব শব্দটি তিনবার ব্যবহার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে – কর্ম, জ্ঞান ও যোগ এই তিনটি পন্থার মাধ্যমেও আমরা আমাদের পরমসিদ্ধি লাভ করতে পারব না । একমাত্র হরিনাম কীর্তন বা ভক্তিযোগের মাধ্যমে আমরা হৃদয়কে দিব্যস্তরে অধিষ্ঠিত করতে পারি । এ প্রসঙ্গে কলিসন্তরণ উপনিষদে বলা হয়েছে –
“হরে কৃষ্ণ প্রভৃতি ষোল নাম কলির কলুষ নাশকারী । এর থেকে শ্রেষ্ঠ উপায় সমস্ত বেদের মধ্যে দৃষ্ট হয় না ।”
কলিযুগের যুগধর্ম হচ্ছে হরিনাম সংকীর্তন এবং তা সমগ্র বৈদিক শাস্ত্রেই স্বীকৃত হয়েছে । সত্যযুগে ৫০/৬০ হাজার বছর ধ্যান করে যে ফল লাভ করা যায়,তা কলিযুগে শুধুমাত্র হরিনাম সংকীর্তন করে সেই একই ফল লাভ হয় । তাই সমগ্র জগতের সকল দেশের সকল শ্রেণীর লোকের একমাত্র পরম ধর্ম হচ্ছে হরিনাম সংকীর্তন যজ্ঞে অংশ গ্রহণ করা । হরিনাম-কীর্তন শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য নয়, বিশ্বের সকলের জন্য । যে হরিনাম কীর্তন করবে, তারই আত্মা শুদ্ধ ও প্রসন্ন হবে । হরিনাম সংকীর্তন কোনও সাম্প্রদায়িক ধর্ম নয়, তা হচ্ছে যুগধর্ম, বিশ্ববাসী সকলের ধর্ম । তা যদি না হবে, বিশ্বের সমস্ত দেশের লোকেরা হরিনামে মেতে উঠবে কেন ?
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা – আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের কৃপায় আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ড, ইতালি, জাপান, জার্মান, দক্ষিন আমেরিকা, আফ্রিকা, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পোল্যান্ড, চীন, নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতের সর্বত্র, রাশিয়া থেকে শুরু করে প্রায় ১৫৬ টি দেশে হরিনামে মেতে উঠেছে । এ ভাবে মহাপ্রভুর ভবিষ্যৎ বাণী সফল হচ্ছে ।


COMMENTS