ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মাকে বছরের যে সকল সময় জল থেকে তোলা হয়।
আগামিকাল ৪ঠা জৈষ্ঠ্য আর কালই বছরের শেষ দেখা মিলবে জল বাসিনী মা যোগাদ্যা মায়ের।
বছরে মাকে যে যে সময় তোলা হয়:—
২৯শে বৈশাখ, মহাপূজা, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় নবমী, বিজয়া দশমী, ১৫ই পৌষ এবং মাকুরী সপ্তমী এই ৭ বারই তোলা হয় মাকে জল থেকে। মহাপূজা, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ বাদ দিয়ে বাকী সবগুলিকেই 'ওগোল' বলে। 'ওগোলে' যাওয়ার অনুমতি নেওয়ার জন্য বিবাহিত হতে হবে এবং নিজের নামে সংকল্প করে মায়ের কাছে ছাগ বলিদান দিতে হবে। দত্ত, সামন্ত, রায় চৌধুরী যারা মায়ের সাথে যুক্ত তাদের প্রত্যেকেই এই প্রথা মানতে হয়।পাঠ নরান :
২৯শে বৈশাখ মাকে জল হতে তোলা হয়। জলের মন্দিরের সামনে রাখা হয়। মায়ের সাগর যার উপর মা থাকেন সেটি পরিষ্কার করা হয়। মায়ের সাগরের রসি পরিবর্তন হয়। নতুন রসি লাগানো হয়। এই নতুন রসি দেয় রায়েরা। পূজা হয় বলিদান ও রায়েদের। পূজার পর মাকে জলে রাখা হয়।বৈশাখ সংক্রান্তি :
বৈশাখ সংক্রান্তির ভোরে মাকে জল থেকে তোলা হয়। কাঠের চারটি চাকাযুক্ত পাটাতনের সাগরের উপর মা শায়িত থাকেন। রসি দিয়ে টেনে জলের বাইরে আনা হয়। জলের বাহিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দত্ত বংশের ছাগ বলিদান হয়। সেই বলিদানের রক্ত চিনি মন্ডা সহকারে মায়ের মুখে দেওয়ার পর মন্দিরের উদ্দেশ্যের রসি টান শুরু হয়। যে পাটাতনের উপর মা শায়িত থাকেন – তাকে সগর বা সাগর বলে।সারাদিন রাত দর্শনের পর ভোরের রাতে মা পুনরায় জলে চলে যান। ভোরে মন্দির হতে নামার আগে সুরেশ্বর চক্রবর্তীর বংশ হতে মশাল আসতেই হবে। মশাল আসার পর মন্দির হতে মা জলে যাবার জন্য তৈয়ারি হন। জলে নামার আগে মা ডোমের বলিদানের রক্ত চিনি মন্ডা সহকারে মুখে নিয়ে চলে যান।
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ :
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ সন্ধ্যাকালে মাকে তোলা হয় এবং রাখা হয় মন্দিরের সামনে। রাত্রে প্রায় ১২ টা পর্যন্ত সাধারণের দর্শন হয়। পরে পূজা বলিদান হওয়ার পর মাকে জলে দেওয়া হয় ।আষাঢ় নবমী :
আষাঢ় নবমীতে মাকে তোলা হয। পূজা বলিদান হয় সাময়িক ফল পূজায় দিতে হয়। যেমন- আম, কাঁঠাল এবং ক্ষীর।বিজয়া দশমী :
বিজয়া দশমীতে মাকে তোলা হয়। পূজা বলিদান হয়। মাকে বিজয়ার প্রনাম জানানো হয়।
মাকুরী সপ্তমী :
মাঘ মাসে মাকে দিতে হয় চিড়ে, চালভাজা, মুরকী।১৫ই পৌষ :
মাকে তোল হয় পূজা বলিদান হয় পৌষ মাসে নুতন ধানের চালে মুড়ির নাড়ু, মুরকী খই এবং মূলা অবশ্যই দিতে হয়।এই সাতবারের মধ্যে দর্শনার্থীরা দেখার সুযোগ পায় কেবল বৈশাখি সংক্রান্তির মহাপূজাতে ও ৪ঠা জৈষ্টতেই। আর বাকি সময় গুলি দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ মেলেনা। তবে বর্তমানে পূরাতন দেবী মুর্তিটি পাবার পর থেকে পুরাতন মুর্তিটির দর্শন দৈনন্দিন করতে পারবে দর্শনার্থীরা।
কিন্তু জল বাসিনী মা যোগাদ্যা র দর্শন কেবল বৈশাখি সংক্রান্তির মহাপূজাতে ও ৪ঠা জৈষ্টতেই হবে।
COMMENTS