জামাই ষষ্ঠী ব্রতকথা (Jamai Sasthi bratakatha) কেন পালন করা হয় জামাইষষ্ঠী, কোন ইতিহাস লুকিয়ে দিনটির পিছনে? জামাই ষষ্ঠীর ইতিহাস এবং জানুন জামাই ষষ্ঠী কে
জামাইষষ্ঠী ব্রতকথা (Jamai Sasthi bratakatha)
কেন পালন করা হয় জামাইষষ্ঠী, কোন ইতিহাস লুকিয়ে দিনটির পিছনে? জামাই ষষ্ঠীর ইতিহাস এবং জানুন জামাইষষ্ঠী কেন পালন করা হয়? জামাই ষষ্ঠীর তাৎপর্য কি? ভারতীয়দের জন্য জামাইষষ্ঠীর গুরুত্ব কতটা? জানুন সবকিছু এখানে।
বাংলার লৌকিক দেবদেবীর অন্যতম হলেন মা ষষ্ঠী। প্রচলিত রয়েছে যে, তাঁর কৃপায় বন্ধ্যা রমণীর কোলে সন্তান আসে। কালে কালে সেই মা ষষ্ঠীর পুজোর সঙ্গেই জড়িয়ে গিয়েছে জামাই-আদরের পরম্পরা। সারা বছর আরও বেশ কিছু ষষ্ঠী তিথি পালন করা হলেও হল দুর্গা ষষ্ঠী এবং অরণ্যষষ্ঠী বা জামাইষষ্ঠী সবথেকে জনপ্রিয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিকেই জামাই ষষ্ঠী বলা হয়। আর এই দিনই জামাইকে আপ্যায়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। মনে করা হয়, শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের দিনগুলো যাতে মসৃণ হয়, সেই ভাবনা থেকেই জামাইবরণ।
মা ষষ্ঠী দেবীর পৌরাণিক কথা - maa sasthi brotokotha in bengali
কেন পালন করা হয় জামাইষষ্ঠী? কোন ইতিহাস লুকিয়ে দিনটির পিছনে?
তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক জামাইষষ্ঠীর ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে:-
জামাইষষ্ঠী নিয়ে বেশ কয়েকটি কথার মতভেদ আছে। কথিত আছে প্রাচীন ভারতে এক সময় একটি বিশেষ সংস্কার প্রচলিত ছিল। বিবাহিত কন্যা যতদিন না পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে, কন্যার পিতা-মাতা তার গৃহে পদার্পন করবেন না। সেই সময় বাল্যবিবাহ চালু ছিল। ওই সময় অল্প বয়সে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে শিশু মৃত্যুর সমস্যা দেখা দিত ।
ফলে কন্যার পিতা-মাতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো কন্যার বাড়ি যাওয়ার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিধানদাতা জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হলো জামাইষষ্ঠীর দিন হিসাবে। সেই জন্য জামাইষষ্ঠী হিসাবে জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠীর দিনকেই বেছে নেন জামাই আদরের জন্য। এই বিশেষ প্রথার মাধ্যমে মেয়ের মুখ দর্শন হবে। তারই আশায় থাকে তাদের মনে।
তাই কন্যার পিতা মাতা ষষ্ঠীর আগের দিন কন্যার বারি এসে কন্যা আর জামাই কে নিয়ে যান নিজ গৃহে । আর জামাইষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠীকে পুজো করে খুশি করতেন কন্যার মায়েরা। যাতে মেয়ের কোলজুড়ে ফুটফুটে পুত্র সন্তান আসে, তাই এই পূজো খুবই মনোযোগ ও উৎসাহ সাথে পালন করেন মেয়ের মায়েরা। মা ষষ্ঠীর পুজো ও জামাই আদরের জন্য এই পার্বণের নামকরণ জামাইষষ্ঠী। এই দিন মেয়ে-জামাইকে ডেকে সমাদর করে বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করা হয়। পাশাপাশি জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করা হয়। বিশাল আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমেই উদযাপন করা হয় জামাইষষ্ঠী।
এছাড়া শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে যাতে জামাইয়ের সম্পর্ক মজবুত হয় তারও এক প্রচেষ্টা রয়েছে কন্যার বাপের বাড়ির লোকেদের। তবে বর্তমানে এই সংস্কারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কন্যার পিতা মাতা অথবা যিনি কন্যা সম্প্রদান করেছেন তিনি এক বছর কন্যার বাড়ি যাবেন না। আর গেলেও কন্যার বাড়ির অন্ন গ্রহণ করবেন না। আধুনিক শহরের জীবনে অবশ্য এই সংস্কার গুরুত্ব পায় না। তবে এখনো বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় জামাইষষ্ঠী।
পুরাণ বলছে জামাইদের ষষ্ঠী দেওয়া হয়ে থাকলেও, মূলত মেয়ের মঙ্গলকামনাতেই বিয়ের পর বাপের বাড়িতে আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। কিন্তু পাছে শুধু মেয়েকে ডাকলে বরের বাড়িতে অপমানিত হতে হয়, সেকালে তাই ডাকা হত জামাইকেও। খাইয়ে-দাইয়ে তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয় জামাইবাবাজীবনকে।
ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা শক্তিপীঠের ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক কথা - history of maa jogadya
কোন কোন উপকরণ ছাড়া অপূর্ণ থাকে জামাইষষ্ঠীর পুজো?
কী বলছে পুজোর আদর্শ রীতি:-
ওই ডালি নিয়ে পুজো দিয়ে আসতে হয় মা ষষ্ঠীর থানে। পূজা শেষে ব্রতকথা পাঠ করে অথবা শ্রবণ করে সবাইকে ‘বাতাস’ দিয়ে, হাতে ষষ্ঠীর সুতো বেঁধে দেন গৃহের সকল সদস্যকে। জামাই এলে সেই গাছা ঘটের জলে ভিজিয়ে তালপাতা দিয়ে বাতাস করতে হয়। এরপর তাঁকে বসিয়ে হাতে সুতোটা বেঁধে দিয়ে পাখার হাওয়া দিয়ে শ্বাশুড়ি ‘ষাট-ষাট-ষাট’ বলে আশীর্বাদ করে উপবাস ভঙ্গ করেন।
কথিত আছে- জামাইষষ্ঠীর আসল উদ্দেশ্য হল মাতৃত্ব, সন্তান ধারণ এবং বংশবৃদ্ধি। মেয়ে যাতে সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে, তার জন্য মঙ্গল কামনা। ষষ্ঠী পুজোর দিন আম্রপল্লব, তালপাখার পাখা, ধান, দূর্বা, পাঁচ থেকে নয় রকমের ফল, ফুল এবং বেলপাতা, সাদা সুতো ও হলুদ ইত্যাদি উপকরণগুলি না থাকলে এই ব্রত সম্পূর্ণ হয় না।

COMMENTS