গুরু পূর্ণিমার উদযাপন কীভাবে শুরু হয়েছিল, জেনে নিন এই দিনের ইতিহাস know-the-importance-and-significance-of-guru-purnima
Guru purnima - গুরু হল সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। হিন্দুধর্মে, গুরুকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশের রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতি বছর আষাঢ় পূর্ণিমার দিনে গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়। জেনে নিন গুরু পূর্ণিমার তিথি, পুজো পদ্ধতি ও গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব এবং কীভাবে গুরু পূর্ণিমা শুরু হয়েছিল।

ভারত হল ঋষি-মুনিদের দেশ, যেখানে তাঁদের ঈশ্বরতুল্য বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, ভক্তদের প্রতি ভগবান রুষ্ট হলে গুরুই রক্ষার পথ দেখাতে পারেন। প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশে গুরুদের সম্মানজনক স্থান দেওয়া হয়েছে। গুরুর দেখানো পথে চললে, যে কোনও ব্যক্তি শান্তি, আনন্দ ও মোক্ষ প্রাপ্তি করতে পারেন। তাই গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে বৈদিক যুগ থেকেই গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়ে আসছে।
প্রাচীন সভ্যতার মূলে থাকত চন্দ্র সূর্যের অবস্থান তাই‚ পূর্ণিমা অমাবস্যাকে ঘিরে আবর্তিত হত বিভিন্ন পালা পার্বণ। গুরু পূর্ণিমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি তবে প্রবর্তনের পিছনে যে কারণই থাক না কেন‚ এর উদ্দেশ্য আচার্যকে সম্মান প্রদান করা ।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমায় গুরুর পূজার্চনা করলে অক্ষয় আশীর্বাদ মেলে।
গুরু হল সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। হিন্দুধর্মে, গুরুকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশের রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতি বছর আষাঢ় পূর্ণিমার দিনে গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়।
জেনে নিন গুরু পূর্ণিমার তিথি, পুজো পদ্ধতি ও গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব এবং কীভাবে গুরু পূর্ণিমা শুরু হয়েছিল।
গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল একটি বৈদিক প্রথা, যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে থাকেন। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় গুরু পূর্ণিমা। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই মুণি পরাশর ও সত্যবতীর ঘরে মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম জয়ন্তীও পালন করা হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, তিনিই চারটি বেদের ব্যাখ্যা করেছেন। বেদ বিভাজনের কৃতিত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর নাম বেদব্যাস। ১৮টি পুরাণ ছাড়াও তিনি রচনা করেন মহাভারত (Mahabharat) ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা (Bhagwat Geeta)। এই কারণে গুরু পূর্ণিমাকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়।
বৌদ্ধ ধর্ম মতে, বোধিজ্ঞান লাভের পরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় সারনাথে প্রথম শিষ্যদের উপদেশ দেন গৌতম বুদ্ধ। হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শিব বা মহাদেব হলেন আদি গুরু। সপ্তর্ষির সাতজন ঋষি হলেন তাঁর প্রথম শিষ্য - অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য, মরীচি এবং কেতু (নাম নিয়ে মতভেদ আছে)। শিব এই তিথিতে আদিগুরুতে রূপান্তরিত হন এবং এই সাত ঋষিকে মহাজ্ঞান প্রদান করেন। তাই এই তিথিকে গুরু পূর্ণিমা আখ্যা দেওয়া হয়।
ভগবান বলেছেন, '' আমি জীবের অজ্ঞান ও অন্ধকার নাশ করার জন্য, শুদ্ধভক্তি প্রদানের জন্য, আমিই গুরুরুপে তার একনিষ্ঠ ভক্তগনের আশ্রয় করে আবির্ভূত হই''।
সনাতন ভারতীয় ঐতিহ্যে, গুরুর স্থান ঈশ্বরের চেয়ে উঁচুতে বলে বিবেচিত হয়।
গুরু সেই পবিত্র আলো যা পৃথিবীকে আলোকিত করেছে। গুরু হলেন পরশ পাথর, লোহাকে সোনায় পরিণত করেন।
গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল একটি বৈদিক প্রথা, যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে থাকেন। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় গুরু পূর্ণিমা। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই মুণি পরাশর ও সত্যবতীর ঘরে মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম জয়ন্তীও পালন করা হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, তিনিই চারটি বেদের ব্যাখ্যা করেছেন। বেদ বিভাজনের কৃতিত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর নাম বেদব্যাস। ১৮টি পুরাণ ছাড়াও তিনি রচনা করেন মহাভারত (Mahabharat) ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা (Bhagwat Geeta)। এই কারণে গুরু পূর্ণিমাকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়।
বৌদ্ধ ধর্ম মতে, বোধিজ্ঞান লাভের পরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় সারনাথে প্রথম শিষ্যদের উপদেশ দেন গৌতম বুদ্ধ। হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শিব বা মহাদেব হলেন আদি গুরু। সপ্তর্ষির সাতজন ঋষি হলেন তাঁর প্রথম শিষ্য - অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য, মরীচি এবং কেতু (নাম নিয়ে মতভেদ আছে)। শিব এই তিথিতে আদিগুরুতে রূপান্তরিত হন এবং এই সাত ঋষিকে মহাজ্ঞান প্রদান করেন। তাই এই তিথিকে গুরু পূর্ণিমা আখ্যা দেওয়া হয়।
কথিত আছে যে মহর্ষি বেদ ব্যাস আষাঢ় মাসের এই দিনেই তাঁর শিষ্য ও ঋষিদের শ্রী ভাগবত পুরাণের জ্ঞান দান করেছিলেন। সেই থেকে মহর্ষি বেদ ব্যাসের ৫ জন শিষ্য এই দিনটিকে গুরু পূর্ণিমা হিসাবে উদযাপন এবং এই দিনে গুরুর পুজো করার প্রথা শুরু করেন। এরপর প্রতি বছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমার দিনটিকে গুরু পূর্ণিমা বা ব্যাস পূর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয়।
হতে পারে গুরুদেব আমাদের মতই কথা বলেন, চলাফেরা করেন তবুও তিনি অসাধারন।ভগবান বলেছেন, '' আমি জীবের অজ্ঞান ও অন্ধকার নাশ করার জন্য, শুদ্ধভক্তি প্রদানের জন্য, আমিই গুরুরুপে তার একনিষ্ঠ ভক্তগনের আশ্রয় করে আবির্ভূত হই''।
সনাতন ভারতীয় ঐতিহ্যে, গুরুর স্থান ঈশ্বরের চেয়ে উঁচুতে বলে বিবেচিত হয়।
গুরু সেই পবিত্র আলো যা পৃথিবীকে আলোকিত করেছে। গুরু হলেন পরশ পাথর, লোহাকে সোনায় পরিণত করেন।
শিখিয়েছেন শান্তির পাঠ,দূর করেছেন অজ্ঞতার অন্ধকার। গুরু আমাদের শিখিয়েছেন, ঘৃণার উপর প্রেমের জয়।
ভগবান আবার বলেছেন, ''মৎস্বরুপ'' অর্থাৎ গুরুদেব হচ্ছেন আমার প্রকাশ বিগ্রহ এবং সেই গুরুস্বরুপের মধ্যে সমস্ত দেবতা অধিষ্ঠান আছে। প্রদত্ত মন্ত্র জপ না করা এবং তার উপদেশ-নির্দেশ অনুসারে ভক্তিজীবন অনুশীলন না করাও গুরুদেবের চরনে অপরাধ।তাই আমাদের সর্ববিষয়ে গুরুদেবকে প্রথমেই শ্রদ্ধা করা উচিত।
'গুরু' শব্দের মানে হল যিনি অন্ধকার দূর করেন । শিক্ষক বা গুরু আমাদের মনের সব সংশয়‚ সন্দেহ‚ অন্ধকার‚ জিজ্ঞাসা দূর করেন । নতুন পথের দিশা দেখান । তমসা থেকে জ্যোতির্ময়ের পথে চালিত করেন গুরু।
হিন্দিতে একটা প্রবচন আছে‚
‘ গুরু গোবিন্দ দুয়ো খাড়ে‚ কাকে লাগু পায় / বালিহারি গুরু আপনে যিন গোবিন্দ দিয়ো বতায়ে’
অর্থাৎ‚ এমন একটা পরিস্থিতি‚ যখন গুরু এবং গোবিন্দ বা ঈশ্বর দুজনেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন‚ আমি কাকে প্রথম পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব ? তার পরের লাইনেই আছে সমাধান। যদি ঈশ্বর এবং গুরু দুজনে সামনে থাকেন‚ আগে গুরুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে,কৃতজ্ঞতা জানাবে । কারণ তিনিই আমাদের ঈশ্বরকে চেনান।
এই দিনে কিছু বিশেষ কাজ ও ব্যবস্থা করলে গুরু ও ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে এমন কিছু কাজ আছে, যা করলে গুরু ও শ্রী হরি রাগ করতে পারেন। আসুন আমরা আপনাকে বলি এই দিনে আপনার কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়।
ভগবান আবার বলেছেন, ''মৎস্বরুপ'' অর্থাৎ গুরুদেব হচ্ছেন আমার প্রকাশ বিগ্রহ এবং সেই গুরুস্বরুপের মধ্যে সমস্ত দেবতা অধিষ্ঠান আছে। প্রদত্ত মন্ত্র জপ না করা এবং তার উপদেশ-নির্দেশ অনুসারে ভক্তিজীবন অনুশীলন না করাও গুরুদেবের চরনে অপরাধ।তাই আমাদের সর্ববিষয়ে গুরুদেবকে প্রথমেই শ্রদ্ধা করা উচিত।
'গুরু' শব্দের মানে হল যিনি অন্ধকার দূর করেন । শিক্ষক বা গুরু আমাদের মনের সব সংশয়‚ সন্দেহ‚ অন্ধকার‚ জিজ্ঞাসা দূর করেন । নতুন পথের দিশা দেখান । তমসা থেকে জ্যোতির্ময়ের পথে চালিত করেন গুরু।
হিন্দিতে একটা প্রবচন আছে‚
‘ গুরু গোবিন্দ দুয়ো খাড়ে‚ কাকে লাগু পায় / বালিহারি গুরু আপনে যিন গোবিন্দ দিয়ো বতায়ে’
অর্থাৎ‚ এমন একটা পরিস্থিতি‚ যখন গুরু এবং গোবিন্দ বা ঈশ্বর দুজনেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন‚ আমি কাকে প্রথম পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব ? তার পরের লাইনেই আছে সমাধান। যদি ঈশ্বর এবং গুরু দুজনে সামনে থাকেন‚ আগে গুরুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে,কৃতজ্ঞতা জানাবে । কারণ তিনিই আমাদের ঈশ্বরকে চেনান।
এই দিনে কিছু বিশেষ কাজ ও ব্যবস্থা করলে গুরু ও ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে এমন কিছু কাজ আছে, যা করলে গুরু ও শ্রী হরি রাগ করতে পারেন। আসুন আমরা আপনাকে বলি এই দিনে আপনার কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়।
গুরু পূর্ণিমার দিনে এই অলৌকিক প্রতিকার অবশ্যই করুন :—
- গুরু পূর্ণিমার দিন অশ্বত্থ গাছের শিকড়ে মিষ্টি জল নিবেদন করুন। কথিত আছে যে এটি সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মীকে খুশি করে এবং তাঁর আশীর্বাদ আপনার উপর থাকে।
- আষাঢ়ের গুরু পূর্ণিমায় সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রী বা দম্পতিকে চাঁদ দেখতে হবে এবং একসঙ্গে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এটি আপনার বিবাহিত জীবনে সুখ, শান্তি এবং সুখ নিয়ে আসে।
- গুরু পূর্ণিমার সন্ধ্যায় অবশ্যই তুলসীতে দেশি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। এতে মা লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণু প্রসন্ন হন।
- অবিবাহিত মেয়েদের এই দিনে পূর্ণিমার উপবাস রাখা উচিত এবং সন্ধ্যায় কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল, দুধ এবং অক্ষত চাঁদকে অর্পণ করা উচিত। এতে রাশিফলের চন্দ্র দোষ দূর হয়।
ভুল করেও গুরু পূর্ণিমায় এই কাজগুলি করবেন না :—
- গুরু পূর্ণিমার দিন ঘর একেবারে নোংরা রাখবেন না।
- এই দিনে কাউকে খারাপ কথা বলবেন না, কারও সঙ্গে তর্ক বা ঝগড়া করবেন না।
- এই দিনে আপনার শিক্ষককে কখনই অপমান করবেন না এবং আপনার বড়দের অসম্মান করবেন না।
- গুরু পূর্ণিমার দিন ভুল করেও মাংস খাবেন না।
COMMENTS