৪০০ বছরের পুরনো এই দূর্গা মন্দির এই দূর্গা মন্দিরে শোনায় পুরনো দিনের ইতিহাস। পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) মন্তেশ্বর ব্লকের (Manteswar Block)
মায়ের সেবার মহিষ বলি
বর্ধমান শহর (Burdwan City) থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে হোসেনপুরের দূর্গা বাড়ি।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই দূর্গা মন্দির। এই দূর্গা মন্দিরে শোনায় পুরনো দিনের ইতিহাস। পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) মন্তেশ্বর ব্লকের (Manteswar Block) হোসেনপুর গ্রামের ভট্টাচার্য পরিবারের দূর্গা পুজো, এলাকায় "মহিষকাটাতলা" নামে পরিচিত।
![]() |
ভট্টাচার্য বাড়ির দূর্গার প্রতিমা, হোসেনপুর, পূর্ব বর্ধমান, চিত্র - সৌরভ ভট্টাচার্য |
শুরুর শুরুটা ৪০০ বছর আগে লক্ষনচন্দ্র ভট্টাচার্য্য করেন। বর্ধমানের রাজা সঙ্গম রায়ের রাজত্ব কালে, হোসেনপুরের লক্ষনচন্দ্র ভট্টাচার্য বর্ধমানের সভাপণ্ডিত ছিলেন। তিনিই এই পূজার আরম্ভ করেন। তিনি বর্ধমানের সভাপণ্ডিত থাকায় রাজা সঙ্গম রায় লক্ষনচন্দ্র ভট্টাচার্যের বৃদ্ধাকালে হোসেনপুর গ্রামের অনেক অংশের জমি উপহার দেন। হাতে আসে হোসেনপুরের একটি বিরাট অংশের জমিদারিত্ব। ঘনজঙ্গল কেটে তৈরি হয় বসতবাড়ি। তৈরি হয় পুকুর, বাগান, দুর্গামন্দির। আর ঐ দূর্গা মাতার পূজার জন্য তৈরি করেন বিভিন্ন রিতি রিয়াজ। অতীতের জৌলুষে বিলুপ্তি হয়েছে মন্দির ।
কিন্তু পূজার সমস্ত নিয়ম বজায় রেখেছে ভট্টাচার্য্য পরিবারের বংশধর। পুজো মণ্ডপ তিন দিকে ঘেরা একটি আটচালা মণ্ডপ। এক একজন বেক্তি এক একরকম দায়িত্ব নিয়েছেন। আর মায়ের সেবার অংশগ্রহণ কারিদের কিছু কিছু জমিও দিয়েছেন। এমনকি মা দূর্গার জন্য যে মহিষ বলি হয় , সেই মহিষের জন্য একটা মাঠও আছে।
ষষ্ঠীতে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পুকুর থেকে ঘটে করে ঘট আনা হয়। তারপর শুরু হয় দেবীর বোধন। মাকে সন্তুষ্ট করতে সাজাতে হয় বিভিন্ন নৈবেদ্য ও ভোগ। ছাগ বলি থেকে মহিষ বলিও হয়।
মন্দিরে নিত্য সেবাও হয় মায়ের।
ভট্টাচার্যবাড়ির 'মহিষকাটাতলা'র মাহাত্ম্য জানে আশেপাশের এলাকার মানুষজনও। পুজোর ক'দিন কান পাতলেই শোনা যায় মহিষকাটার গল্প। পুজোর নবমীর দিন সকালে ভেঙে পড়ে গ্রাম ও আশেপাশের ঘোড়াডাঙ্গা, শুশুনা ও আটাশপুর গ্রামের মানুষ জন। এদিন মহিষ বলি দেখার জন্য প্রচুর মানুষ ভট্টাচার্য পরিবারের দুর্গা বাড়িতে ভিড় জমায়। বলি সমাপ্ত হওয়ার পর আশীর্বাদ হিসেবে মহিষের রক্ত কপালে মাখেন।
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, মহিষ বলির পর রক্ত শরীরে মাখলে পুণ্য হয় এবং রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


COMMENTS